আজ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ। সারা দেশে নতুন বছরকে বরণ করতে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের আয়োজন চলছে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতিগত ঐক্যকে তুলে ধরে। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বৈশাখী উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’ রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকা থেকে সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণিল পরিবেশে আয়োজন করা হবে। এটি বাংলা সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরার এক দৃষ্টান্ত। শোভাযাত্রার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং এটি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
নববর্ষ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে সবার জন্য আনন্দ ও মিলনের দিন হয়ে উঠেছে। নববর্ষের আগমন আমাদের জীবনে নতুন প্রত্যাশা ও নব প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।’
এছাড়া রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিগত এক বছরে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষিনির্ভর দেশের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের আরও ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। বাংলা নববর্ষ আমাদের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত। বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা উজ্জীবিত করে এবং এটি আমাদের ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের কৃষি ও প্রকৃতির সম্পর্ক গভীর। কৃষক তাঁর ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ঠিক করে। বৈশাখি মেলা, বৈশাখি শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলো কৃষি, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।’
এদিকে, নববর্ষ উদযাপনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নববর্ষ উৎসবের পরিবেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলেও যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক হামলার মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৫টি ব্যাটালিয়ন এবং ৩০৮টি টহল টিম সারাদেশে মোতায়েন থাকবে। তাছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’