নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। পরিস্থিতি সামাল দিতে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
ঢামেকে ভর্তি আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল হান্নান (৪৫), জয় দাস (৩৫), আব্দুল আউয়াল (৪০), তন্ময় (৩২), জাকারিয়া (৬০), সিকান্দার (৪০), ওসমান গনি (৪০), আব্দুল্লাহ (৩১), অভিজিৎ (৩৫), আজিম উদ্দিন (৫০), সাইম (২৮), রিপন (৩২), মনসুর শামীম (৪৮), ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল কুদ্দুস (৬০), জুয়েল (৩৪) ও আমিরুল ইসলাম (৩৪)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, যমুনার সামনে সংঘর্ষে আহত অবস্থায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ জন হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এর আগে সকালে সরকারি চাকরিজীবীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা যমুনার দিকে অগ্রসর হন। বেলা ১১টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে তারা কর্মসূচি থেকে সরে যাবেন না। বারবার আশ্বাস মিললেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।