বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের আবেগ ও উত্তেজনায় আচ্ছন্ন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল জনপ্রিয় মার্কিন সায়েন্স ফিকশন হরর সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর দীর্ঘ যাত্রা। দর্শকদের দশ বছরের সঙ্গী এই সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত মৌসুমের শেষ পর্বটি মুক্তির পরই নেটফ্লিক্স সার্ভারকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল দর্শকদের ঢল।
গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টায় ‘চ্যাপ্টার এইট: দ্য রাইটসাইড আপ’ শিরোনামের সমাপনী পর্বটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটফ্লিক্সের সার্ভারে চাপ পড়ে যায়। বিবিসি জানায়, অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে প্ল্যাটফর্মটি সাময়িক কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, যা এই সিরিজের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার এক জীবন্ত প্রমাণ।
২০১৬ সালে ইন্ডিয়ানার কাল্পনিক শহর হকিন্সের একদল কিশোরের অতিপ্রাকৃত অভিযানের গল্প দিয়ে শুরু হওয়া সিরিজটি পপ সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছিল। আশির দশকের নস্টালজিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিশ্বজগতের সমাপ্তি দেখা নিয়ে ভক্তদের আবেগ ছিল উথালপাথাল।
দুই ঘণ্টার এই মহাকাব্যিক সমাপনী পর্ব দেখার সময় দর্শকরা একই সঙ্গে উত্তেজনায় শিহরিত এবং কান্নায় বিহ্বল হয়েছেন। শুধু ঘরে বসে নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্বাচিত সিনেমা হলগুলোতেও বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই সমাপ্তি উদযাপন করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ঐতিহাসিক ‘দ্য ইজিপশিয়ান থিয়েটার’-এর সামনে শত শত ভক্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন চূড়ান্ত পর্ব দেখার জন্য। অনেক দর্শকের মতে, সিরিজের এই পরিণতি তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষাকে সার্থক করেছে।
আশির দশকের আবহ সঠিকভাবে ধরে রাখার প্রচেষ্টা থাকলেও শেষ সিজনে কিছু ছোটখাটো অসংগতি দর্শকদের নজর এড়ায়নি। একটি দৃশ্যে ব্যবহৃত জ্যাকেটে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের লোগো দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে ভক্তরা ‘ভেকনা’র রহস্য এবং ‘আপসাইড ডাউন’-এর ভাগ্য নিয়ে যে সব অনুমান করছিলেন, তার অনেকগুলোরই সত্যতা মিলেছে চূড়ান্ত পর্বে। মিলি ববি ব্রাউন, উইনোনা রাইডার ও ডেভিড হারবারের মতো তারকাদের অভিনয় চরম মুহূর্তগুলোকে করেছে আরও স্মরণীয়।
নেটফ্লিক্স যখন ওয়ার্নার ব্রোস. স্টুডিও কেনার মতো বড় বিনিয়োগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর মতো মাইলফলক সিরিজের সফল সমাপ্তি ওটিটি জগতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একটি প্রজন্মের সাংস্কৃতিক সঙ্গী হয়ে ওঠা এই সিরিজ চলে গেলেও হকিন্সের গল্প ভক্তদের হৃদয়ে চিরকালীন স্থান করে নেবে।