Ridge Bangla

শরিফ ওসমান হাদির পর ‘হিটলিস্টে’ আরও অনেকে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি (৩৩) সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনায় জানা যায়, জুমার নামাজ শেষে মতিঝিলের বিজয়নগর কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই অস্ত্রধারী হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিটি শরিফ ওসমান হাদির বাম কানের পাশে বিদ্ধ হয়। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ফারুক জানান, বিজয়নগর এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বাম কানে গুলির আঘাত রয়েছে এবং তিনি জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে কয়েক দিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। এর আগে সকাল ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় অবতরণ করে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে।

এদিকে, বিশিষ্ট অনুসন্ধানি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে দাবি করা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের একটি সেলফি ও একটি ফোন নম্বর প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, হামলার পর দাউদ খান ও তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং পরে আসামের গুয়াহাটিতে তোলা একটি সেলফি পাঠান।

হামলার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। টিডিবিডি টুডে নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করে, যেখানে সীমান্তে ‘পুশ ইন’ সংক্রান্ত তথ্যের দাবি করা হয়।

পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দাবি উঠেছে, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের একটি মহল টার্গেট কিলিং ও ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলে হামলার পরিকল্পনা করছে। এসব দাবিতে বলা হচ্ছে, শরিফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার পর আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামাজিক অ্যাকটিভিস্টের নাম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, যাদের মধ্যে জুলাইযোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীরাও আছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

This post was viewed: 39

আরো পড়ুন