Ridge Bangla

ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। যদিও তারা পূর্বেও পারস্পরিক সহযোগী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ও সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির এই দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতি।

গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলরের উপস্থিতিতে এই দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে সামনে আসে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইলন মাস্ক তাঁর সরকারের সমালোচনা করে কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছেন না এবং রিপাবলিকানদের নতুন নীতির কারণে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেই মাস্ক এখন সমর্থন প্রত্যাহার করছেন।

এর জবাবে মাস্ক বলেন, তিনি গাড়ির ভর্তুকি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ কমাতে চান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্টে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেন তিনি এবং দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরাও তাঁর সহায়তা ছাড়াই জয়লাভ করতে পারত।

সাবেক প্রশাসনের সময়ে ‘Doge’ নামক একটি বিভাগে মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে মাস্কের ১৩০ দিনের বিশেষ সরকারি নিয়োগ শেষ হয়। সে সময়ও সম্পর্ক ছিল উষ্ণ। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্প বলেন, “ইলন এবং আমার সম্পর্ক ভালো ছিল।”—এই অতীতকাল নির্দেশক মন্তব্য তাদের সম্পর্কের ভাটা স্পষ্ট করে।

এই দ্বন্দ্বে রিপাবলিকান দল এখন অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মুখে। অনেকেই মাস্কের পক্ষ নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন মাস্কের সরকারি চুক্তি বাতিল ও তার বিরুদ্ধে পুরনো তদন্ত ফের চালুর কথা।

ডেমোক্র্যাটরা এই বিষয়ে এখনো নিরব থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আগামী দিনে আমেরিকার রাজনৈতিক সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

This post was viewed: 47

আরো পড়ুন