গণ-অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে মানবিক কারণে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি থাকার অনুমতি বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবীদের আবেদনের পর আদালত এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরাস বলেন, স্বাস্থ্যগত জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বলসোনারোকে সাধারণ কারাগারে না পাঠিয়ে গৃহবন্দি রাখাই যুক্তিসংগত। মানবিক কারণেই এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর ক্ষমতা ধরে রাখতে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্টে বলসোনারোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরের মাসে তাকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তাকে গৃহবন্দি রাখা হলেও পরে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার পর তাকে ব্রাসিলিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সেলে নেওয়া হয়। এরপর জানুয়ারিতে তাকে পাপুদা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
কারাবন্দি অবস্থায় ৭১ বছর বয়সী বলসোনারো নিউমোনিয়া ও কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি হন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির পর গত ২৪ মার্চ আদালত তাকে ৯০ দিনের জন্য গৃহবন্দি থাকার অনুমতি দেয়।
ওই সময়সীমা শেষ হলে তার আইনজীবীরা গৃহবন্দি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। আদালত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
রায়ে বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরাস উল্লেখ করেন, ৯০ দিনের গৃহবন্দি অবস্থায় বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে এ সময়ে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অসদাচরণের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। রায়ে বলা হয়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে গৃহবন্দিত্ব বজায় রাখা যুক্তিসংগত ও উপযুক্ত।”
সাম্প্রতিক সময়ে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে তল্লাশির সময় তার নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হলেও আদালতের এ সিদ্ধান্তে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রাজিলের অ্যাটর্নি জেনারেলও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে গৃহবন্দি রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
গৃহবন্দি থাকলেও বলসোনারো পরিবার এবং রাজনৈতিক সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব বজায় থাকতে পারে।