Skip to main content

Ridge Bangla

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও টার্গেট কিলিংয়ে নিরাপত্তাহীনতায় নগরবাসী

দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ফের বাড়ছে টার্গেট কিলিং, গুলিবর্ষণ ও হুমকির ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাইরে অবস্থান করেও একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাট, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, ঠিকাদারি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকটি সন্ত্রাসী চক্র। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পশুর হাট ইজারা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিটন হত্যার পেছনে শুধু পশুর হাট নয়, বরং বৃহত্তর আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হলেও মূল নির্দেশদাতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে অবস্থান করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার ভাগাভাগি, নতুন এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই মূলত কিলিং মিশনের পরিকল্পনা করা হয়। কোনো গ্রুপের শুটার বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠলে তাকে সরিয়ে দিতেও হামলার ঘটনা ঘটে। বড় অঙ্কের চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের টার্গেট করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রাজধানীতে গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গুলশানে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সুমন হত্যা, বাড্ডায় বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন হত্যা, পুরান ঢাকায় তারিক সাইফ মামুন হত্যা এবং পল্লবী ও তেজগাঁওয়ের কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনেও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরোধের বিষয় উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমন কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, জামিনে থাকা সন্ত্রাসীদের কঠোর নজরদারিতে এনে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে জনআস্থা বাড়বে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই থাকুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই চার্জশিট ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

This post was viewed: 51

আরো পড়ুন