যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে করিম খান দাবি করেছেন, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিচালনাকারী সংস্থা রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পরিষদীয় ব্যুরো করিম খানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানায়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে করিম খানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।
এক বিবৃতিতে ব্যুরো জানায়, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি সেবা দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্যানেলের পরামর্শ এবং লিখিত উপস্থাপনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যুরোর সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি গোপন রাখা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অধিকার এবং চলমান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন দ্রুত আয়োজন করা হবে বলেও জানানো হয়।
জাতিসংঘের তদন্ত চলাকালে গত বছরের মে মাসে ছুটিতে যান করিম খান। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি দাবি করেন, তিনি অভিযোগ থেকে ‘মুক্তি’ পেয়েছেন।
জেটিও সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করিম খান বলেন, তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো ‘অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ’ প্রমাণিত হয়নি এবং তাকে কাজে ফিরতে দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের প্রতিবেদন পড়েছি। বিচারকদের সিদ্ধান্তও পড়েছি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১৩৭টি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এর একটিতেও এমন কোনও আচরণের কথা বলা হয়নি, যাকে কোনোভাবেই অনুপযুক্ত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা যায়।’
অন্যদিকে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে মত দেয় যে জাতিসংঘের তদন্তে করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধানের নির্দেশে এ তদন্ত শুরু হয়। করিম খানের দপ্তরের এক সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তোলার পর তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে করিম খান জানিয়েছিলেন, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে।