মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তের অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে এখনো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী একটি সংগঠন। গত বছর বহুজাতিক অভিযানে হাজারো মানুষকে উদ্ধারের পরও এসব কেন্দ্রে অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার থাই পুলিশের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান ট্রাফিকিং ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স। সংগঠনটির দাবি, আটকে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। তাঁরা মিয়ানমারের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪টি স্থানে বন্দী রয়েছেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বন্দীদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন চীনের নাগরিক। এ ছাড়া প্রায় ২০০ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ২০ জন থাই নাগরিক রয়েছেন। পাশাপাশি ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, রাশিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা ও জিম্বাবুয়ের নাগরিকও সেখানে আটকা আছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা এসব প্রতারণা কেন্দ্র থেকে অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে অপরাধী চক্রগুলো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
অনেক ভুক্তভোগীকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রেখে জোর করে কাজ করানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব কেন্দ্রে আটকে থাকা ব্যক্তিরা নির্যাতনসহ শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হন।
গত বছর সীমান্তবর্তী এসব প্রতারণা কেন্দ্র বন্ধে আঞ্চলিক অভিযানে নেতৃত্ব দেয় থাইল্যান্ড। ওই অভিযানে মিয়ানমারের মিয়াওয়াদি এলাকার বিস্তৃত প্রতারণা কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়। তবে এরপরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম।
সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান ট্রাফিকিং ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্সের চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ডেমোক্রেটিক কারেন বৌদ্ধ আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় থাকা কয়েকটি প্রতারণা কমপ্লেক্সে এখনো বহু মানুষ বন্দী রয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, এসব কেন্দ্রের অনেকগুলো এখনো ধ্বংস করা হয়নি। পাশাপাশি সেখানে থাকা সবাইকে উদ্ধারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। এ সুযোগে অপরাধী চক্রগুলো অনলাইন জালিয়াতি ও মানব পাচারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভুক্তভোগীদের ওপরও পড়ছে।
এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক কারেন বৌদ্ধ আর্মির দুই কর্মকর্তা এবং মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের একজন মুখপাত্র রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে মিয়ানমার সরকার এর আগে এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল।