ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের জন্য নিরাপদ আনারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। চিকিৎসকের পরামর্শে বাজারের ফলের বদলে নিজের উৎপাদিত বিষমুক্ত আনার খাওয়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন টাঙ্গাইলের তরুণ আল আমিন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই মারা যান তার মা। এরপর মায়ের স্মৃতিকেই প্রেরণা করে গড়ে তোলেন আনারের বাগান।
২০২৩ সালে আল আমিনের মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসক তাকে নিয়মিত আনার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। নিরাপদ ফলের নিশ্চয়তা দিতে বাড়ির উঠোনে কয়েকটি আনারের চারা রোপণ করেন আল আমিন। তবে গাছ ফল দেওয়ার আগেই তার মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর অপূর্ণ ইচ্ছাকে শক্তিতে পরিণত করে আল আমিন বাগান সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যান। বর্তমানে তার বাগানে বিষমুক্ত আনার উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আনারের চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছেন।
শুধু চারা বিক্রি করেই প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক তরুণ আনার চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আনার অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। নিরাপদ ফল উৎপাদনে আল আমিনের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ এ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
আল আমিনের আনার বাগান এখন শুধু একটি কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং একজন সন্তানের মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিকে ধারণ করে এগিয়ে চলার এক অনন্য উদাহরণ।