রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথিত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিক গ্রেগরি নেখোরোশেভ মারা গেছেন। ৬৯ বছর বয়সী এই সাংবাদিক লাটভিয়ার রাজধানী রিগায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ১১ বছর ধরে তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বসবাস করছিলেন।
লাটভিয়ার সংবাদমাধ্যম ডেলফির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের বাড়ির আঙিনা থেকে সংগ্রহ করা মাশরুম খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন নেখোরোশেভ। পরে জানা যায়, সেগুলো বিষাক্ত ছিল।
তাঁর বন্ধুদের দাবি, মাশরুম সংগ্রহ ও খাওয়ার প্রতি নেখোরোশেভের বিশেষ আগ্রহ ছিল। তবে এবার সেই আগ্রহই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৮ সালে রাশিয়ার সংবাদপত্র মস্কোভস্কি করেসপনডেন্টের প্রধান সম্পাদক ছিলেন নেখোরোশেভ। ওই বছর তাঁর পত্রিকায় একটি আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তৎকালীন স্ত্রী লিউদমিলাকে তালাক দিয়ে অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্ট এলিনা কাবায়েভাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন পুতিন।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে সংবাদপত্রটি। পরে এর মালিক, সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী আলেক্সান্ডার লেবেদেভ পত্রিকাটি বন্ধ করে দেন।
পরবর্তী সময়ে নেখোরোশেভ দাবি করেন, রুশ নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর তিনি রাশিয়া ছাড়তে বাধ্য হন।
ডেলফির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের কথিত সঙ্গী হিসেবে এলিনা কাবায়েভার নাম প্রকাশ্যে আনা প্রথম সাংবাদিক ছিলেন নেখোরোশেভ। এ কারণে তিনি নিজেকে পুতিনের ‘ব্যক্তিগত শত্রু’ হিসেবেও উল্লেখ করতেন।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিগায় নির্বাসিত জীবন কাটানোর সময়ও সম্ভাব্য হামলা বা হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় থাকতেন তিনি।
নেখোরোশেভের মৃত্যুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি লাটভিয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ভ্লাদিমির পুতিন ও এলিনা কাবায়েভা তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কোনো স্বীকৃতি দেননি। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। ক্রেমলিন এ বিষয়ে বরাবরই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে।