Ridge Bangla

বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিলেন মমতা, প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের অধিকাংশই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে লোকসভার সাংসদদের একটি অংশও পৃথক অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতেও দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক তার কাছেই থাকবে। তার ভাষায়, “দলীয় প্রতীক কোথাও যাবে না। আমাকে দমাতে হলে, আপনাদের আমাকে মারতে হবে।”

শনিবার নতুন করে সংকট তৈরি হয়, যখন দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। মাত্র ১ মাস আগে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মমতার ঘনিষ্ঠ নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত চন্দ্রিমাকে পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে দেখা যায়। এর আগে শুক্রবার ঋতব্রতের সমর্থকেরা কলকাতায় তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বলেন, তার ছেলে আগে থেকেই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন, এমন সম্ভাবনা আগেই অনুমান করেছিলেন।

তিনি আরও জানান, কোনো অবস্থাতেই তিনি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেবেন না। তার দাবি, দলের অনেক নেতা চাপের মুখে দল ছেড়েছেন। তবে তিনি কিংবা তার দল বিজেপির কাছে মাথা নত করবেন না।

নির্বাচনের মাত্র ২ মাসের মধ্যে দলত্যাগের ঘটনাকে মমতা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর দলীয় সব দায়িত্ব তিনি নিজেই গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তার বাসভবনই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এদিকে, দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক দাবির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে দুই পক্ষকে আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন