পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় স্বর্ণা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, শাশুড়ি মুনজুমা বেগম (৪০) ও ননদ জামাই সৌরভের (৩০) অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। স্বর্ণার স্বামী রাকিবকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের সি-কেওয়াবুনিয়া বাজারে মানববন্ধন করেন স্বর্ণার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, মুনজুমার মেয়ে মারুফা প্রবাসে থাকার সুযোগে তার স্বামী সৌরভের সঙ্গে শাশুড়ির অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পারায় স্বর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, এই পরিবারটা খুবই অসহায়। তবে ওরা অত্যন্ত ভদ্র এক পরিবার। মেয়েটা অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন।
স্বর্ণার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের কবরের পাশে বসে আহাজারি করছেন তার মা রিনা বেগম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। তখন স্বর্ণা আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে বলে- মা, এখানে আমার ভালো লাগে না। আমারে ১০ হাজার টাকা দিবা? আমি তোমার জামাইকে নিয়া ঢাকা যামু। কারণ জানতে চাইলে স্বর্ণা বলে -মা তোমার কাছে বলতে আমার লজ্জা লাগে, তবুও বলছি, আমার শাশুড়ি আর আমার ননদের জামাই অবৈধ সম্পর্ক করে, আমি দুই-তিন দিন দেখছি। এ কথা বলার সময় ওই গৃহবধূর শাশুড়ি তা শুনে ফেলেন। পরের দিন ওর শাশুড়ি আমাকে জোর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই শুনি আমার মেয়ে নাকি গলায় ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আশপাশের লোকজন বলছে, তারা কেউ ওরে গলায় ফাঁস লাগা অবস্থায় দেখে নাই। আমার মাইয়াটারে ওরা শাশুড়ি-জামাই মিলে মাইরা ফালাইছে। আমার এত আদরের মেয়েটা এইভাবে চইলা গেল, এভাবে ওরে মাইরা ফালাইলো। প্রশাসনের কাছে আমি এর বিচার চাই।’
স্বর্ণার বাবা কাঠমিস্ত্রি কামাল হাওলাদার বলেন, ‘আমি লোকজনের কাছে হাত পেতে চান্দা উঠাইয়া আমার মাইয়াটারে বিয়া দিছিলাম। কে জানতো এমন করে ওরা আমার মাইয়াটারে মাইরা ফালাইবে? আমার অনেক কষ্টের মাইয়া। ওরে সবসময় পর্দায় রাখছি, ওরা এইভাবে ওরে মাইরা ফালাইলো মানতে পারি না। আচ্ছা, গরিবের জন্য কি কোনো বিচার নাই? ওরা শাশুড়ি-জামাই কীভাবে পালিয়ে যায়? আমি ওদের বিচার চাই।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার স্বামীর বাড়ি পশুরীবুনিয়া এলাকা থেকে গুরুতর অবস্থায় স্বর্ণাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর স্বর্ণার স্বামীকে আটক করা হলেও অভিযুক্ত শাশুড়ি মুনজুমা ও ননদ জামাই সৌরভ পলাতক রয়েছেন। স্বর্ণার শ্বশুর খালেক মিরা (৬০) আগে থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামীকে আটকের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।