কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যকে অতর্কিত হামলার মাধ্যমে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক যুবক। অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম বাহাদুর হোসেন বাদল (১৯)। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে থানা চত্বরের ভেতরেই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত পুলিশ কনস্টেবলের নাম শরিফুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত বাহাদুর হোসেন বাদল থানা-সংলগ্ন লক্ষ্মীপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে থানার সীমানার ভেতর গরু চরাচ্ছিল। এতে থানার ভেতরের ফুল ও ফলের গাছ নষ্ট হওয়ায় পুলিশ তাকে একাধিকবার সতর্ক করে এবং গরু নিয়ে ভেতরে ঢুকতে নিষেধ করে। কিন্তু পুলিশের সেই নিষেধ অমান্য করে মঙ্গলবার দুপুরেও সে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে থানা চত্বরে প্রবেশ করে।
বিকেলে গরু নিয়ে মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম তাকে বাধা দেন এবং পুনরায় গরু নিয়ে ঢুকতে নিষেধ করেন। এতে বাদল চরম ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা দা দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরিফুলের মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি কোপ দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় শরিফুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থল থেকেই হামলাকারী বাদলকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) গুলজার আলম জানান, বাদলকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সে আইন অমান্য করে আসছিল। আজ সরাসরি পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে বাদলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।