বরগুনার তালতলী থানায় কর্মরত মো. ফারুক গাজী নামে এক পুলিশ সদস্য চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার সকাল নয়টার দিকে তালতলী থানার ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, ফারুক গাজীর পরনের জামার পকেট থেকে কয়েকটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিয়েছি। অযথা কাউকে হয়রানি করবে না।”
এ ছাড়া মৃত্যুর পর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, মেয়ের জামাই ও ভাইয়ের জন্য করণীয় বিষয়েও চিরকুটে লিখে গেছেন তিনি।
ফারুক গাজী ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার উত্তর চরাইল গ্রামের মৃত রতন গাজীর ছেলে। গত ১০ মে তিনি তালতলী থানায় পুলিশ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং থানার নতুন ব্যারাকে থাকতেন।
পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার দিবাগত রাতে ব্যারাকে ঘুমাতে যান ফারুক গাজী। ওই রাতেই তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে ডাকতে যান। কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সোহাগ বলেন, “পুলিশ সদস্য ফারুক গাজীকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “চিরকুট লিখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।”