শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেরিয়ে পড়তে হলো কাজে। গন্তব্য তেজগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে কারওয়ানবাজার সিগন্যালে এসেই অবাক হতে হলো। শনিবার সকাল হওয়ায় রাস্তা তুলনামূলক অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু এমন অবস্থাতেও সিএনজি চালক সামনের দিকে না এগিয়ে জেব্রাক্রসিংয়ের আগেই থেমে গেলেন। কারণ জিজ্ঞেস করতেই তিনি উত্তর দিলেন, “রাস্তায় ক্যামেরা বসানো আছে। নড়াচড়া করলেই মামলা হবে। তাই সিগন্যাল না পেলে সামনে যাওয়া যাবে না।”
এরপর সিএনজির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখা গেল, আশপাশের কোনো লেনেই যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে। নির্দিষ্ট একটি স্থানে দাঁড়িয়ে শুধু মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন তারা। কিছুদিন আগেও ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেনের গাড়ি থামিয়ে অন্যটি ছাড়তে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের গলদঘর্ম অবস্থা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না। এ সময় লাল-সবুজ বাতি মেনে চলতে দেখা গেল সব ধরনের যানবাহনকে। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলেও কোনো যানবাহন এগোচ্ছিল না।
এই বিষয়ে গত কিছুদিনে সামাজিক মাধ্যমে অনেক তথ্য দেখলেও বাস্তব চিত্র অবলোকনের সৌভাগ্য আগে হয়নি। এই দৃশ্যকে সৌভাগ্য বলার কারণ, রাজধানী ঢাকার যানজট যেন দীর্ঘদিনের এক দুঃস্বপ্ন। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স- সবারই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় সড়কে। ঢাকার যানজটের বিষয়ে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায় ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকায় যানজটের কারণে দৈনিক নষ্ট হয় প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা। অর্থমূল্যে যা দিনে প্রায় ১৩৯ কোটি এবং বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
ঢাকার যানজট নিরসনে নানা সময়ে ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, সিগন্যাল আধুনিকীকরণসহ বহু উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি কখনোই। ঠিক এমন বাস্তবতায় ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক প্রযুক্তি, যাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর স্মার্ট ক্যামেরা সিস্টেম বলা যায়। সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি এবং ‘স্বয়ংক্রিয় মামলা’ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে।
কী এই এআই ট্রাফিক ক্যামেরা?
এআই ট্রাফিক ক্যামেরা মূলত এমন এক স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থা, যা শুধু ভিডিও ধারণই করে না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। সিস্টেমে দেওয়া আপডেট অনুযায়ী নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ম ভঙ্গ শনাক্ত করে এই ব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকায় ব্যবহার শুরু হওয়া এআইভিত্তিক এই ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ না করতে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এভাবে কয়েকদিন পরীক্ষামূলক প্রচার শেষে ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে আইন ভঙ্গ করলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।
এ বিষয়ে এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ে চালু করা হয়েছে এমন ক্যামেরা।
পিটিজেড ক্যামেরা
আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে পুলিশ বলছে পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা। এটি এমন উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকেই ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানো ও জুম করা যায়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে চিত্র ধারণ করার পাশাপাশি চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারে। এই পিটিজেড ক্যামেরাকে ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে নিমিষেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ ব্যবহার করে এই ক্যামেরা দূর থেকে স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে, যা আইন ভঙ্গকারী গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, আপাতত ক্যামেরাগুলোতে সফটওয়্যারের সাহায্যে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্যকারী যানবাহনকে শনাক্ত করতে পারে এই সিস্টেম। এর মধ্যে রয়েছে লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা কিংবা লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধ।
ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, সিস্টেমটিতে আরও অনেক লজিক ইনস্টল করা হবে। লজিক যত বাড়বে, ট্রাফিক আইনের পরিধিও তত বৃদ্ধি পাবে। লজিকের মধ্যে থাকা যেকোনো একটি নিয়ম অমান্য করলেই নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে এআই ক্যামেরা। এসব ছবি-ভিডিও সঙ্গে সঙ্গে ডিএমপি সদর দপ্তরে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এরপর টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও যাচাই-বাছাই করে আইন অমান্যকারী গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে মামলার ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে মালিক ও চালকদের নামে রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় ডাকযোগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার কাগজ পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভার এই সফটওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বরপ্লেটের তথ্য ব্যবহার করে জানা যাচ্ছে মালিকের বিস্তারিত।
গত ৭ মে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এখন থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই তা ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড হবে। এ-সংক্রান্ত নোটিশ ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে মালিক ও চালকদের। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজিরা না দিলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও নেওয়া হবে।
প্রযুক্তির কারণে বদলাচ্ছে চালকদের আচরণ
এআই ক্যামেরা চালুর পর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে চালকদের আচরণে। আগে যেখানে ফাঁকা রাস্তাতেও লালবাতি অমান্য ছিল সাধারণ ঘটনা, সেখানে এখন প্রায় সব চালকই সিগন্যাল মেনে চলছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন রিপোর্ট ও সামাজিক মাধ্যমেও দেখা গেছে, চালকরা ক্যামেরার উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে অধিক সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ‘মানবিক দুর্বলতা’। অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখানো হতো। এছাড়া প্রভাবশালীদের ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা হতো। কিন্তু এই ব্যবস্থা নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে। ফলে ভিআইপি কিংবা সাধারণ নাগরিক- সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
যানজট নিরসনে কতটা কার্যকর?
যানজটের মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অনিয়ন্ত্রিত লেন পরিবর্তন, সিগন্যাল অমান্য, রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং এবং বিশৃঙ্খল গণপরিবহন। এআই ক্যামেরা এসব আচরণ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম ইতোমধ্যেই সফল হয়েছে। গবেষণা বলছে, এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম যানবাহনের গতিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, যানজট শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অপটিমাইজেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এ বিষয়ে বলেছেন, নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ক্যামেরা থাকা প্রায় সব সিগন্যালেই চালকরা আইন মানছেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজারের বেশি ফুটেজ জমা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, হাতে থাকা ফুটেজগুলো যাচাই-বাছাই করে আমাদের টেকনিক্যাল টিম ইতোমধ্যে ৫০০ মামলা পাঠিয়ে দিয়েছে।
এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শুধু আইন প্রয়োগেই নয়, বরং স্মার্ট সিগন্যালিংয়ের মাধ্যমেও যানজট কমাতে সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মোড়ে গাড়ির চাপ বেশি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যালের সময় বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
নাগরিক সেবায় নতুন দিগন্ত
এআই ক্যামেরার আরেকটি বড় সুবিধা হলো ডিজিটাল স্বচ্ছতা। আগে ট্রাফিক মামলার জন্য সরাসরি পুলিশি যোগাযোগের প্রয়োজন হতো। এখন নোটিশ ডাকযোগে বা ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে। জরিমানাও ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে সময় বাঁচছে এবং কমছে হয়রানি।
এছাড়া ভবিষ্যতে এই ডেটা বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় বেশি যানজট হয়, কোন সময়ে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে কিংবা কোন রুটে ট্রাফিক চাপ বাড়ছে- এসব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আইন ভাঙলে কী হবে?
রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে- এমন কিছু এআই ক্যামেরায় ধরা পড়লে সেক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ বলছে, জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
চ্যালেঞ্জও কম নয়
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এই সিস্টেম অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনলেও কিছু ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন অনেক গাড়িতে অস্পষ্ট, ভাঙা বা রঙ করা নম্বর প্লেট থাকে। এছাড়া অনেকে এখনো আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ বা হালনাগাদ নম্বর প্লেট ব্যবহার করেন না, যার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি বা মালিককে শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।
ঢাকা শহরের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থার বিশৃঙ্খল পরিবেশ এবং অবৈধ যানবাহনের উপস্থিতি এআই সিস্টেমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এআই ক্যামেরা মূলত যানবাহনের নিয়মভঙ্গ ধরার জন্য তৈরি। পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের প্রবণতা ক্যামেরা দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার ব্যক্তিগত সচেতনতা।
প্রযুক্তি চালু করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ঢাকার যানজটের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কারণ- অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সংকীর্ণ রাস্তা, অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি, অপ্রতুল গণপরিবহন এবং পথচারীদের অসচেতনতা। এসব বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে ঢাকায় বিদ্যমান জ্যামের অন্যতম বড় কারণ যে রিকশা ও তিন চাকার যান, তার ব্যাপারেও সরকারকে জনবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। মামলা দিয়ে এসব রিকশা ও যান নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ খুব বেশি নেই। কারণ এসব রিকশার বেশিরভাগেরই রেজিস্ট্রেশন কিংবা কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সুযোগ কমে আসে।
এছাড়াও এআই ক্যামেরা কার্যকর রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ডেটা নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি ভুল শনাক্তকরণ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
ভবিষ্যতের স্মার্ট ঢাকা
বিশ্বের বহু শহর ইতোমধ্যেই ‘স্মার্ট সিটি’ ধারণার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় এআই ট্রাফিক ক্যামেরা চালু হওয়াকে সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। যদি এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং এর সঙ্গে গণপরিবহন সংস্কার, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতা যুক্ত করা যায়, তবে ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
একসময় যে শহরে ট্রাফিক সিগন্যাল মান্য করা ছিল বিরল দৃশ্য, সেখানে এখন ক্যামেরার চোখে বদলাতে শুরু করেছে চালকদের আচরণ। প্রযুক্তির এই নতুন অধ্যায় হয়তো ভবিষ্যতের ঢাকাকে আরও শৃঙ্খল, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে রূপান্তরের পথ দেখাবে।