শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় বন্যহাতির লোকালয়ে প্রবেশ আগেভাগে শনাক্ত করে মানুষ ও জানমালের ক্ষতি কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ডিভাইস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে হাতির উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ১৫টি ডিভাইস বসানো হবে, যা হাতির চলাচল শনাক্ত করে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা দেবে।
শনিবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের মহুয়া রেস্ট হাউস মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে গারো পাহাড়ের বন্যহাতি প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে ফসল, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয়রা মশাল জ্বালিয়ে ও পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী সমাধান দিচ্ছে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, মানুষ ও বন্যহাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, এআইভিত্তিক আগাম শনাক্তকরণ ডিভাইসের মাধ্যমে আগে থেকেই সতর্কবার্তা দেওয়া গেলে প্রাণহানি এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন এলায়েন্সের কমিউনিটি গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট আবরার আহমাদ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ বন্যহাতি সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম, বন্যহাতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির এবং ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বক্তব্য দেন।
সেমিনারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, সহকারী বন সংরক্ষক সাদেক আলী খান, রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলীসহ বন বিভাগ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।