আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেবেন। সফরকালে তার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে ট্রাম্পের।
ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা গোপনে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, বৈঠকের ফাঁকে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত মাসে এক ফোনকলে শি ট্রাম্প ও তার স্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্পও পাল্টা আমন্ত্রণ দিয়েছেন, যদিও কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়া সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।” এ ছাড়া বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়েও আলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই সফরকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ট্রাম্পকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর সময় এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি তা করব এবং আমরা আলাপ করব। উনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমরা তার সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছি, আর সম্পর্ককে আরো ভালো করব।”
তবে শি এবং কিম উভয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক এখন সূক্ষ্ম এক পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে শি জিনপিং, কিম জং উন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সঙ্গে নিয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আয়োজনকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চীন, রাশিয়া ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী “ষড়যন্ত্র” করছে।
এদিকে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য এ বৈঠকটি হচ্ছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে আলোচনায় বসেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পাল্টা পদক্ষেপে চীনও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়।
চলমান আলোচনা এগিয়ে নিতে ট্রাম্প গত মাসে এক নির্বাহী আদেশে শুল্কহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।