টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে পৌঁছেছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতঘর। এখনো বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
রোববার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বন্যায় বিভাগের ১১ জেলার ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।
প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার। জেলাটিতে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে মারা গেছেন ১৩ জন। এ ছাড়া বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট ২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যায় ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন অবস্থান করছেন।
কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ১ হাজার ৫৮০ জন। বান্দরবানের ২০০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ৫৮১ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যায় কক্সবাজারে ৪৮ হাজার ৬৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বান্দরবানে ক্ষতির মুখে পড়েছে ১৫ হাজার ৩৩০টি ঘর। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি, রাঙামাটিতে ৪৭৩টি এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৪০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৯২৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ হাজার ২৮১ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।