বন্ধুর কাছ থেকে মাত্র এক হাজার টাকা ধার নিয়ে ৩৫ বছর পর ২৫ গুণ অর্থ ফেরত দিয়েছেন এক ভারতীয়। বিদেশের মাটিতে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের স্মৃতি ধরে রেখে ধার নেওয়া অর্থ ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক হাজার টাকা ধার নেওয়ার ৩৫ বছর পর কেরালার এক ব্যক্তি তার সাবেক সহকর্মীকে ২৫ হাজার রুপি ফেরত দিয়েছেন। বন্ধুর কাছ থেকে নেওয়া ধার শোধ করতে ইসমাঈল নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার বন্ধু এডলা লাচান্নার খোঁজ করছিলেন।
কিন্তু লাচান্নার ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের কোনো তথ্য না থাকায় তাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না ইসমাঈল। শেষ পর্যন্ত তিন দশকের বেশি সময় পর তেলেঙ্গানার জগতিয়াল জেলার ধর্মপুরীতে তাকে খুঁজে পান। এরপর ধার করা অর্থের বিপরীতে ২৫ হাজার রুপি পরিশোধ করেন তিনি।
১৯৯১ সালে সৌদি আরবের আবকাইক শহরে কাজ করার সময় ইসমাঈল ও লাচান্নার মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। আরও তিনজন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে তারা একই বাসায় থাকতেন এবং প্রায় পাঁচ বছর একসঙ্গে বসবাস করেন।
সে সময় ইসমাঈল লাচান্নার কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নিয়েছিলেন। তখন এর মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার রুপি। সামর্থ্য হলে পরে টাকা ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
এর কিছুদিন পর লাচান্না ভারতে ফিরে আসেন। সে সময় মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকায় একপর্যায়ে দুজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। টাকার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও সেই ধার কখনো ভোলেননি ইসমাঈল।
সম্প্রতি পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। কারণ তার কাছে লাচান্নার ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের অন্য কোনো তথ্য ছিল না। শুধু জানতেন, লাচান্না ধর্মপুরীর বাসিন্দা।
এই সামান্য তথ্য নিয়েই ধর্মপুরীতে বন্ধুর খোঁজে যান ইসমাঈল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাবেক সহকর্মী ও বন্ধুর সন্ধান পান। যোগাযোগ হওয়ার পর লাচান্নার পরিবারের হাতে ২৫ হাজার রুপি তুলে দেন তিনি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সাক্ষাতের সময় লাচান্না উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। তাই হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে কথা হয় দুই বন্ধুর।
লাচান্না বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে তিনি ইসমাঈলকে মাত্র ১২০ সৌদি রিয়াল ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসমাঈল এর বিপরীতে ২৫ হাজার রুপি ফেরত দেওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
ইসমাঈলকে একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ তাদের বন্ধুত্বের দৃঢ়তার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এত বছর পর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় বন্ধুকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
লাচান্না বলেন, ‘আমি জানি না, তিনি টাকার সঙ্গে সুদ যোগ করেছিলেন কি না। সে সময় ১২০ সৌদি রিয়ালের মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার রুপি। ১৯৯১ সালে আমরা ব্যাংকের মাধ্যমে ১২০ রিয়াল পাঠালে ভারতে প্রায় এক হাজার রুপি পাওয়া যেত। টাকাটা ফেরত দেওয়ার জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।’