শেখ হাসিনার ন্যূনতম লজ্জা থাকলে তিনি ভারতে গিয়ে আত্মহত্যা করতেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে এনসিপি আয়োজিত জুলাই পদযাত্রায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো স্বৈরাচারের পতনের পর কেউ কোনো দিন ফিরে আসে না। হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে এমন নজির নেই। বাংলার ইতিহাসে সর্বশেষ লক্ষণ সেন পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনিও কোনো দিন ফিরে আসেননি। বিগত ৮০০ বছরের ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো এভাবে আর কেউ কখনো পালিয়ে যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘তার যদি ন্যূনতম লজ্জা ও ব্যক্তিত্ব থাকত, তাহলে মুখ দেখানো তো দূরের কথা, নিজে ভারতে গিয়ে আত্মহত্যা করতেন। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিরাও এত লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়নি। ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশরাও এত লজ্জাজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।’
শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ২৩ বছরে শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ফিরে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে যে মানুষটি অবিসংবাদিত নেতা হতে পারতেন, তিনি ধীরে ধীরে স্বৈরাচারের বীজ বপন শুরু করেন। বাংলাদেশে প্রথম স্বৈরাচারের বীজ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারিতেই বপন করা হয়েছিল।’
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোকে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করত। কোন সংবাদ যাবে, কোনটি যাবে না, কোন সংবাদ আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাইবে কিংবা একজন আলেমের ওপর অত্যাচারকে কীভাবে জঙ্গিবাদ হিসেবে দেখানো হবে- সবকিছুর স্ক্রিপ্ট শেখ হাসিনা ও তার পেটোয়া বাহিনী লিখে দিত।’
তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের আগে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান দাড়ি-টুপি রাখতে শঙ্কাবোধ করতেন। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেই এসব ফ্রেমিং করা হয়েছে।’
সারজিস আরও বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর কিছুদিন গণমাধ্যমকে ঠিকঠাক পেয়েছি। কিন্তু এখন আবারও দেখছি, মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা ঠিকমতো মাসের বেতন পান না। তাদের পরিবার ঠিকমতো চলে না। তারা যেসব সংবাদ পাঠান, সেগুলো প্রচার হয় না। অথচ মূল গদিতে বসে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা সত্য সংবাদ প্রচারে আবার বাধা হয়ে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। এভাবে একটি দেশের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম কোনো দিন বিকশিত হতে পারে না।’
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘একটি নির্বাচিত বিএনপি সরকার এসেছে। আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বিগত সাড়ে চার মাসে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও কার্ড থেকে শুরু করে যা কিছু এসেছে, সেগুলো বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে বিএনপির ভোটারদের দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে কি আর অধিকারবঞ্চিত মানুষ নেই? বিএনপি কি শুধু বিএনপির সরকার, নাকি পুরো বাংলাদেশের সরকার?’
তিনি বলেন, ‘যেসব চুরি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি হচ্ছে, অনেক রাস্তার টেন্ডার দেওয়ার পর প্রকৌশলী কাজ শুরু করার আগেই এলাকার কিছু নেতাকে টাকা দিতে হয়। তাদের ভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার পর কাজ শুরু করা যায়, অন্যথায় কাজ শুরু করা যায় না।’
সারজিস বলেন, ‘এই উপজেলায় হয়তো পাঁচ বা ১০ জন বিএনপির লোক এ ধরনের ধান্দাবাজি ও চাঁদাবাজি করছে। বিভিন্ন জায়গায় জমি দখলের চেষ্টা করছে, মাদক কারবারিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং জমি দখলে পেছন থেকে সহায়তা করছে। কিন্তু তাদের জন্য বাকি হাজার হাজার মানুষ দুর্নাম কেন নেবে?’
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আজ আছেন, কাল নেই। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার সন্তান যে স্কুলে যায়, সেই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি যদি স্কুলের টাকা চুরি করে, তাহলে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎও শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।’