হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ১০ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও একজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সিতে হামলা চালানো হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ হামলার জন্য ইরান দায়ী। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলে নাবিকরা সেটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
ভারত সরকার জানিয়েছে, জাহাজে মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আজ সকালে ওমানের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও একজন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।’
এদিকে জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তৃতীয় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালিতে কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা হামলা শুরু করে।
ইরান এর আগে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।