ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কয়েকটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাজানো হচ্ছে বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত।
রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে প্রতিরক্ষা বাহিনী।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে শোনা বিস্ফোরণের শব্দগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কাতার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জনগণকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত চালু করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ইরান জানিয়েছে, কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও জাহাজগুলো তা উপেক্ষা করে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতির প্রায় ১ ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করে।
ইরান এর আগে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।