Ridge Bangla

মুসলিম কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গণপিটুনিতে নিহত যুবকের ভাইকে চাকরি দিলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার ৫ দিন পর আবারও এলাকায় গেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (১১ জুলাই) নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি সন্দেহের বশে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

এ সময় ইন্দ্রজিতের ভাইয়ের হাতে সরকারি নাগরিক স্বেচ্ছাসেবকের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সূর্যপুরে নবনির্মিত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন তিনি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বারুইপুরে পৌঁছান শুভেন্দু। প্রথমে নিহত কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট কথা বলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে তিনি সরাসরি ইন্দ্রজিতের বাড়িতে যান।

নতুন পুলিশ ফাঁড়িতে আপাতত ২ জন উপপরিদর্শক, ৪ জন সহকারী উপপরিদর্শক এবং ৪ নারী পুলিশসহ মোট ২০ জন দায়িত্ব পালন করবেন। সেখানে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাশাপাশি নারীদের সহায়তায় বিশেষ নারী সহায়তা ডেস্কও থাকবে।

পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নাম পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে মারা হয়েছে। যারা ভোটে হেরেছে, তারা এই কাজটা করেছে। এর পিছনে ধর্মীয় মৌলবাদীরাও থাকতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “ইন্দ্রজিতের খুনিকে ছাড়া হবে না। সকলকে গ্রেফতার করা হবে। সবাই শাস্তি পাবে।”

শুভেন্দু জানান, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হবে। নতুন পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি করা হবে।

এলাকায় পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় নিয়ে নিহত কিশোরীর পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভিডিও ফুটেজ দেখে রেললাইনে যারা লোহার বিম ফেলছিল, তারা কেউ ভারতপ্রেমী হতে পারে না। ওটা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। নির্দোষ ইন্দ্রজিতের খুনিদের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।”

গত ৪ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরদিন ৫ জুলাই একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল নিহত হন।

কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর সূর্যপুরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। ওই সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ নামে এক যুবক নিহত হন। হামলার সময় তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

চাকরির নিয়োগপত্র পাওয়ার পর ইন্দ্রজিতের দাদা সাংবাদিকদের জানান, এতে তাদের পরিবার খুশি। শুভেন্দু অধিকারী তাদের ভালো থাকার কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি গণপিটুনিতে সাম্প্রদায়িক উসকানি থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এরপর সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন