লাল কার্ডে দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সহ-আয়োজক মেক্সিকোর জন্য শেষ ষোলোতেই শেষ হলো এবারের বিশ্বকাপ অভিযান।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় মেক্সিকো। অন্যদিকে সীমিত সুযোগ থেকেই কার্যকর ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড।
আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ৩৫ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হুলিয়ান কুইনোনেস একটি গোল শোধ করে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফেরান। ফলে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে কঠোর ট্যাকলে ফেলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা। এরপর দীর্ঘ সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় থমাস টুখেলের দলকে।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও মেক্সিকো কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি। এরই মধ্যে পেনাল্টি থেকে দলের তৃতীয় গোল করেন হ্যারি কেইন। পরে কেইনের করা ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে রাউল হিমিনেজ ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে আধিপত্য ছিল মেক্সিকোর। তারা ৬৭ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রাখে এবং ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ৫টি শট নিয়ে ৪টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় এবং সেখান থেকেই ৩টি গোল আদায় করে নেয়।
বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল হজম না করলেও জুড বেলিংহ্যামকে থামানোর উপায় খুঁজে পায়নি মেক্সিকো। তার জোড়া গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া মেক্সিকো এবার শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠলেও কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার নিজেদের মাটিতে শেষ আটে ওঠার আশা ছিল তাদের। তবে সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ওই আসরের পর থেকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেই টানা আটবার বিদায় নিল দলটি।
১৯৬৬ সালে উদ্বোধনের পর আজতেকা স্টেডিয়ামে এটি মেক্সিকোর তৃতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরাজয়। এর আগে ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কোস্টারিকা এবং ২০১৩ সালে হন্ডুরাসের কাছে একই ব্যবধানে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।