Ridge Bangla

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদী, ছড়া ও খালের পানি উপচে বিস্তীর্ণ লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র স্রোতে অনেকের বসতঘর ভেসে গেছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা নদীপথনির্ভর। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ নদীতীরে বসবাস করেন। এ কারণে প্রতিবছর বর্ষায় বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার বাসিন্দারা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। এবারও তিন উপজেলায় বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। সেখানে প্রায় ৩০টি গ্রামের ২ হাজার ৩৬৬ জন পানিবন্দি হয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য প্রশাসন ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে।

বিলাইছড়ি উপজেলার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে বরকল উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ১৫২ জন।

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় রাঙামাটি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠন ত্রাণ বিতরণ করছে। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে বিশেষ চিকিৎসক দলও গঠন করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বাঘাইছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিলাইছড়ির জন্য ২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ চলছে। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১৮৩ জনকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

বরকলের ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ১৫২ জনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বন্যাকবলিত পরিবারগুলোকেও ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন