Ridge Bangla

শেরপুরে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ ফাঁদে হুমকিতে দেশি মাছ

শেরপুরের খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ ফাঁদের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। ডিমওয়ালা মাছ থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী এই ফাঁদে আটকা পড়ায় স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকিতে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।

একসময় খাল, বিল ও পুকুরসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত শেরপুরের জলাশয়গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। তবে নির্বিচারে প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসের কারণে সময়ের সঙ্গে দেশি মাছের সংখ্যা কমেছে। এর মধ্যে অবশিষ্ট জলাশয়গুলোতে ‘চায়না দুয়ারি’ ফাঁদের অবাধ ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নাইলনের অত্যন্ত মিহি ও সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে ঘন বুননে তৈরি করা হয় ‘চায়না দুয়ারি’। মাছ ধরার এই ফাঁদে একবার প্রবেশ করলে ডিমওয়ালা মাছসহ ছোট-বড় মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আর বের হতে পারে না।

মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী এ ধরনের ফাঁদ তৈরি, সংরক্ষণ, আমদানি-রপ্তানি, বাজারজাত, বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরপরও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইন অমান্য করে ফাঁদটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেরপুর সদরসহ জেলার ৫টি উপজেলাতেই নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ ফাঁদের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকা গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়ে প্রতিদিন এই ফাঁদ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে।

আষাঢ় মাসে দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে। অথচ এই সময়েই ফাঁদটির নির্বিচার ব্যবহার চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন হলেও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই ফাঁদ ব্যবহারকারী কয়েকজন জানান, ‘চায়না দুয়ারি’ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তারা জানতেন না। বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়ায় সহজেই ফাঁদটি কিনে মাছ ধরছেন বলে স্বীকার করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে ‘চায়না দুয়ারি’ ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ আটকা পড়ায় দেশি মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের ফাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর অভিযান ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, চায়না দুয়ারি ফাঁদের ব্যবহার বন্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে শেরপুর জেলা মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। ইতোমধ্যে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জেলায় ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। লোকবল সংকটের কারণে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন