জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমি নিজের নামে লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার প্রায় ৬ বছর আগে মারা যান। এরপর তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম (৬৫) স্বামীর বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছিলেন। তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির স্ত্রীকে নিয়ে পাশের টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকেন।
রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীততারা ইউনিয়নের বাঁশনিওগী গ্রামে। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তিনি ওয়ারিশ সূত্রে ৫৬ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে পারিবারিকভাবে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই জমি ভাইদের নামে লিখে দেন এবং সেই অর্থ দিয়ে নিজের নামে অন্য একটি জমি কেনেন।
স্থানীয়দের দাবি, মায়ের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই জমি বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে রাশেদুল ইসলাম জাকির মায়ের জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে রাশেদা বেগম সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, পরে ছেলে গেন্দারপাড়ার বাড়িতে তালা লাগিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে চলে যান। এরপর রাশেদা বেগম স্বামীর বাড়িতে এলে স্থানীয়রা তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে আবারও সালিশ বসে। সেখানে জমি লিখে দেওয়ার জন্য রাশেদা বেগমকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি রাজি না হওয়ায় মৌখিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তার ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে পবিত্র কোরআন শরীফ নিয়ে কান্নারত অবস্থায় রাশেদা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন। পরে তার ভাই ও স্বজনরা তাকে একটি ইজিবাইকে করে নিয়ে যান।
রাশেদা বেগম বলেন, “আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য নানা ভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলো। সম্পত্তি লিখে না দেয়ার কারনে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ীতে যেতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয়। গতকাল দুপুরে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বিষয়টি আমার ভাইদের জানালে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।