প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকার শাসন পরিচালনাকারী নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। সোমবার দেওয়া এ ঘোষণার মাধ্যমে গাজা পরিচালনায় প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের পথ আরও সহজ হলো।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামাসের এ সিদ্ধান্তের ফলে গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
হামাসের কর্মকর্তারা বলেন, “প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসনকারী কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্য দিয়ে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির বেসামরিক শাসন বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।”
২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাস সেখানে শাসন পরিচালনা করে আসছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সিদ্ধান্তটি গোষ্ঠীটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
গত অক্টোবরে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই হামাস একাধিকবার জানিয়েছিল, তারা দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। তবে গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “সংগঠনটি গাজার শাসন কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে এই কমিটির কার্যক্রম তদারকির জন্য জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে; যিনি গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কাজ করবেন।”
হামাসের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, সোমবার পরে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করবে সংগঠনটি। তবে সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
হামাসের আরেক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিলিস্তিনের অন্যান্য উপদলকে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, অন্যান্য উপদল হামাসের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গাজার শাসনভার গ্রহণে জাতীয় কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
হামাসের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ফলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পাবে।