Ridge Bangla

ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা: গাইবান্ধায় কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় একটি কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকসহ মোট ৯ জনকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে ২ জুলাই উপজেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুল হক এবং কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেন। এছাড়া পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ৩ সদস্য এবং ২টি কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ৪ জন পরিদর্শক শিক্ষককেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ৩ সদস্য এবং ২টি কক্ষের ৪ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি এটিকে গুরুতর দায়িত্বহীনতার ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার শুরুতে তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পরে যাচাই করে দেখা যায়, মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৫০ জন এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন।

ঘটনার পর পরীক্ষা শেষে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা কেন্দ্র সচিবের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করলেও একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার পর ২ জুলাই দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতির নির্দেশ দিয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র পাঠানো হয়। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে ৩ জুলাই জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ প্রফেসর এস. এম. আশাদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই আদেশে ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং সংশ্লিষ্ট কক্ষের সব কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২ জুলাই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পৃথক প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় গাইবান্ধায় সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগ মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭১ জন।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন