Ridge Bangla

ন্যাটো সম্মেলনে কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা আসছে: রুটে

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা যে অগ্রগতি করেছে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরতে চায়।

মঙ্গলবার ৩২ সদস্যের সামরিক জোট ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করার পর এই সম্মেলনে তার অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিল। সেই প্রতিশ্রুতির এক বছর পরই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আঙ্কারা থেকে এএফপি জানায়, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্ক রুটে বলেন, “মাত্র এক বছরের মধ্যেই আমরা যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি জানান, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা ইতোমধ্যে তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করছে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য তারা সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও উপস্থাপন করবে।

শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামেও বড় ধরনের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। রুটে বলেন, “আমরা কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করবে।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডা আগের বছরের তুলনায় মূল প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ এই দুই বছর মিলিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার)।”

নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, “আমরা নিজেদের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করছি। আজ এবং ভবিষ্যতে আমাদের সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করছি। কারণ আমাদের সামনে থাকা হুমকিগুলো বাস্তব, বিশেষ করে রাশিয়ার দিক থেকে।”

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আরও বড় ভূমিকা পালন করছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনের একটি পর্বে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে রুটে বলেন, “এ মুহূর্তে ইউক্রেন তাদের সেনাদের সাহস, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে। তবে তাদের আমাদের অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়।”

তিনি আরও বলেন, “ইউক্রেন যতদিন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে, ততদিন ন্যাটো মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকেও নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পাচ্ছে।”

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার পর ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭- উভয় বছরই ইউক্রেনকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার) সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষের পর ইউরোপীয় নেতারা সম্মেলনে তার সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধ এড়িয়ে চলতে চান। তাদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কূটনীতিকদের ধারণা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্ক সম্মেলনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী গণমাধ্যমকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় তুর্কি কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রুটে বলেন, “গণমাধ্যমের বিষয়ে ন্যাটোর অবস্থান স্পষ্ট। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে গণমাধ্যমের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন