Ridge Bangla

মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যা করে মাটিচাপা, বিদেশে যাওয়ার গল্প সাজিয়ে ধরা স্বামী

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৯ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ নিজ বাড়ির আঙিনার প্রায় ১০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম বিপুল সিকদারের নেতৃত্বে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা জায়েদা বেগম (৩৮) গত ১৭ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি আলমগীরের স্ত্রী।

ঘটনার পর শুক্রবার আলমগীর রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে সৌদি আরব চলে গেছেন।

তবে তদন্তে এ দাবির সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ বালুভর্তি বস্তা দিয়ে ঢেকে তার ওপর ঢালাই করা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি গোপন রাখা যায়।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আলমগীর হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তার দেখানো স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ের একটি ৬ বছর বয়সী সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি আলমগীরের পরকীয়ার বিষয়টি নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। তার দাবি, এর জেরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন