Ridge Bangla

৪ বছর ধরে ট্রেনযাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করান মুন্নু শেখ

রাজবাড়ীর কালুখালী রেলস্টেশনে ট্রেন থামলেই পানিভর্তি বোতল হাতে ছুটে যান মুন্নু শেখ। প্রথম দেখায় তাকে হকার মনে হলেও বাস্তবে তিনি কোনো কিছু বিক্রি করেন না। গত ৪ বছর ধরে তৃষ্ণার্ত ট্রেনযাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে আসছেন তিনি।

কালুখালীর বাসিন্দা মুন্নু শেখ পেশায় একজন চটপটি বিক্রেতা। প্রতিদিন দুপুরের দিকে খুলনাগামী নকশিকাঁথা মেইল ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই তিনি দোকান বন্ধ করে প্ল্যাটফর্মে চলে আসেন। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে একে একে যাত্রীদের হাতে তুলে দেন পানির বোতল।

এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিগত এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। ২০১৮ সালে তার ৯ বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতেন তিনি। অনেক সময় ফেরার পথে অসুস্থ ছেলের জন্য একটি পানির বোতল কেনার সামর্থ্যও ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে ক্যানসারের কাছে হার মানে সবুজ। সন্তানের মৃত্যুর পর শোককে শক্তিতে পরিণত করেন মুন্নু শেখ। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, ট্রেনে কোনো তৃষ্ণার্ত যাত্রীকে পানির কষ্ট পেতে দেবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই গত ৪ বছর ধরে নিয়মিত এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

মুন্নু শেখ জানান, চটপটির দোকান চালানোর পাশাপাশি তিনি খালি বোতল সংগ্রহ করেন। ট্রেন আসার আগে বোতলগুলো ভালোভাবে ধুয়ে টিউবওয়েলের পানি ভরে প্রস্তুত রাখেন। এরপর ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে প্রতিটি বগির সামনে গিয়ে যাত্রীদের হাতে বিনামূল্যে পানির বোতল তুলে দেন।

তিনি বলেন, ‘যখন ছোট কোনো শিশুর হাতে পানি তুলে দিই, তখন আমার ছেলে সবুজের মুখটাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনে হয়, যেন ওকেই পানি খাওয়াচ্ছি। যতদিন বাঁচ‌বো, এভা‌বে পা‌নি খাইয়ে যা‌বো।’

মুন্নু শেখ জানান, যাত্রীদের পানি পান করাতে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা তার দোকান বন্ধ রাখতে হয়। এতে কিছু আর্থিক ক্ষতি হলেও এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। মানুষের মুখে হাসি দেখেই তিনি সবচেয়ে বেশি শান্তি পান।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন