যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তীব্র দাবদাহে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় রোববার (৫ জুলাই) পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। এর প্রভাবে পূর্ব উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি মানুষ হিট অ্যালার্টের আওতায় রয়েছেন।
দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই ৪ জুলাই ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, নর্থ ক্যারোলাইনার রলি, ভার্জিনিয়ার নরফোক এবং নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিসহ অন্তত ১৮টি স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ে ওঠে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, রলি, সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটন এবং ফ্লোরিডার জ্যাক্সনভিলসহ কয়েকটি শহরে হিট ইনডেক্স ১০০ থেকে ১০৫ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। হিট ইনডেক্স বলতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে মানুষের শরীরে যে তাপমাত্রা অনুভূত হয়, তা বোঝানো হয়।
তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহ থেকে পূর্ব উপকূলজুড়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৭০-এর ঘর থেকে প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকতে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অ্যারিজোনা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দাবদাহে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে নিউ জার্সিতে। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে ১০টি কাউন্টিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া মিসিসিপির হিন্ডস কাউন্টিতে ২ জন এবং ইলিনয়ের কুক কাউন্টিতে ১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থতায় এখন পর্যন্ত ৩৭৮ জনের বেশি মানুষ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ও জনভোগান্তি বাড়িয়েছে। পাওয়ারআউটেজেস ডট ইউএসের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি, পেনসিলভানিয়ায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ এবং নিউ জার্সিতে ৯৪ হাজার ২০০-এর বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।