Ridge Bangla

জৈব সার বিতর্কের জেরে কামারখন্দের কৃষি কর্মকর্তা বদলি, তদন্ত কমিটি গঠন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে গাছের চারার সঙ্গে বিতরণ করা জৈব সার নিয়ে বিতর্কের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। একই ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ২ জুলাই থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

গত ২৪ জুন কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি চারার সঙ্গে ৩০ কেজি করে ৪ টাকা কেজি দরে জৈব সারও দেওয়া হচ্ছিল। তবে কয়েকজন কৃষক বস্তা খুলে সারে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত উপাদান দেখতে পাওয়ার অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনার পর অনেক কৃষক সার না নিয়ে শুধু গাছের চারা নিয়ে ফিরে যান। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপত্তিকর বস্তাগুলো পরিবর্তন করে মানসম্মত সার সরবরাহের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেন, বিতর্কিত সার গ্রহণের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে বিতরণ করা সব সার ফেরত পাঠিয়ে নতুন সার সরবরাহ করা হবে। এ সারের কোনো বিলও এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে জৈব সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ওয়ান অ্যাগ্রোর মালিক মো. রেজওয়ান কৃষি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক বার্তায় ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এক সঙ্গে সারাদেশে প্রায় ৪৫০ টন ডি-কম্পোস্ট লোড করার বিশাল একটি চাপ ছিল। প্রতিটি উপজেলা থেকে স্যারেরা অনেক তাড়াহুড়ো করছিলেন। একা হাতে পুরো বিষয়টির তদারকি করতে গিয়ে আমার অনভিজ্ঞতার কারণে একটু হিমশিম খেতে হয়েছে। তাড়াহুড়োর মধ্যে গণনার বাইরে ভুলবশত কিছু রিজেক্ট বস্তা আপনার ওখানে চলে গেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত এবং আপনার কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি।’

ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন