Ridge Bangla

আজ শুরু ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ অভিযান, ৫ বছরে রোপণ হবে ৫ কোটি গাছ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে আজ থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’। আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণের এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, এই উদ্যোগকে তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এককালীন ৫ হাজার টাকা করে ‘জলবায়ু অনুদান’ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি গাছ রোপণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর খেলার মাঠ ও খালি জায়গাতেও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি দাখিল মাদ্রাসা। অনুদানের অর্থ দিয়ে জলবায়ু সচেতনতাবিষয়ক র‌্যালি, সেমিনার, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরির কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ‘মাই ট্রি মনিটরিং’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে গাছের অগ্রগতির তথ্য এসব কমিটির কাছে পাঠাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বা আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির গাছ রোপণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ১১ হাজার শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁরা প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ পাঠ পরিচালনা করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও একই কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে আরও ৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি করে এবং ৫ বছরে মোট ৫ কোটি চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে প্রায় ৮০ লাখ গাছ এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আরও ২০ লাখ গাছ লাগাবে।

এই কর্মসূচির প্রয়োজনীয় সব চারা বন বিভাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করবে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণ করা গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে। একই সঙ্গে কর্মসূচিটিকে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের অংশ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়নে গাছের পরিচর্যার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং সফল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘শ্রেষ্ঠ সবুজ বিদ্যালয়’ পুরস্কার দেওয়া হবে।

উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ উদ্যোগের আওতায় আগামী ৫ বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ২ কোটি গাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করেই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সে কারণেই সরকারের বনায়ন ও জলবায়ু সচেতনতার কর্মসূচিগুলো শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিকভাবে সাজানো হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একযোগে বৃক্ষরোপণ শুরু হবে। জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টেলিভিশন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন।

এ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন, জলবায়ুবিষয়ক ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন এবং র‌্যালির আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন