Ridge Bangla

যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দুই দফা হামলার পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও পাল্টাপাল্টি হামলা থামেনি। এমন অবস্থায় সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের ওপর ন্যস্ত। তারা জানিয়েছে, এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাহিনীটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার মতো যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষ আগ্রাসনের চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

আইআরজিসির ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থি। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চলমান সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের একাধিক স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে, যেখানে কিছু অস্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়।

অন্যদিকে আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় অবস্থান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শুক্রবারও ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া কেশম দ্বীপেও হামলার খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে শনিবারের এই হামলা আরও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইরানের সমালোচনা করেন। তবে এ বিষয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন চলতে থাকলে আমরা একসময় আর ধৈর্য ধরতে পারব না। আমরা যে কাজ সফলভাবে শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে শেষ করতে বাধ্য হব। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন