Ridge Bangla

তাজিয়া মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগ, ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে তাজিয়া মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় তাজিয়া মিছিল চলাকালে ফাইয়াজ প্রেমজি নামে ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান।

পুলিশ জানায়, তাজিয়া মিছিলে বিতরণ করা কিছু ক্যাপসুল সেবনের পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আক্রান্তদের একজন সালমান সাইয়েদ ক্যাপসুল সেবনের পর পেটব্যথা ও বমির অভিযোগ করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রেয়ে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে আশুরার শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ফাইয়াজকে ক্যাপসুল বিতরণ করতে দেখা যায়। তিনি এগুলোকে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের উপকমিশনার জয়ন্ত মীনা জানান, উদ্ধার করা ক্যাপসুলগুলোতে জিঙ্ক ফসফাইড মেশানো ছিল। এ ধরনের ক্যাপসুল বিতরণের জন্য অভিযুক্তের কোনো অনুমোদন ছিল না। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল জব্দ করা হয়। এছাড়া আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাসের অর্ডার দেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফাইয়াজ জানিয়েছেন, তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষকে লক্ষ্য করেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশকে তিনি বলেন, ‘আমি অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম।’

পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। তাদের একজন সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল বিতরণের বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেন। পরে তারা অভিযুক্তকে বাধা দেন, পুলিশকে খবর দেন এবং লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ক্যাপসুল না খাওয়ার অনুরোধ জানান।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বাইকুল্লা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ধারায় বিষ বা অনুরূপ উপায়ে ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ঘটনায় কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জিঙ্ক ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে ভেন্টিলেটর সহায়তা দেওয়াই একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন