Ridge Bangla

বিরোধীদলের বাজেট সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাজেট ঘাটতির উদাহরণ তুলে ধরেন।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়কমন্ত্রী বলেন, সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, অর্থমন্ত্রী বরাদ্দের অনুপাত সুষমভাবে নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা মানবসম্পদ। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ও সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, রাষ্ট্রের ব্যয় দুই ধরনের- অনুন্নয়ন ব্যয় এবং উন্নয়ন ব্যয়। তাঁর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ে বরাদ্দ ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা কমিয়ে এবার ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে আনা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় যুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, এ বাজেটে মানুষের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজেট নিয়ে সংসদে খুব বেশি সমালোচনা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু সদস্য রাজস্ব আয়ে ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, ই-চালান চালু, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি চিহ্নিতকরণ এবং ভ্যাট কাঠামোয় নতুন বিন্যাসের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হবে না।

তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে প্রায় ৯ শতাংশ হলেও নেপাল ও ভুটানে তা ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশকেও সেই পর্যায়ে যেতে হবে এবং অর্থমন্ত্রী সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।

ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গ তুলে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা এবার কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কমে এলে মানুষের সঞ্চয় বাড়বে, ফলে ব্যাংক খাতেও অর্থের সংকট হবে না।

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হলে এবং নির্ধারিত ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকবে না।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বাজেটে জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং চীনের বাজেটে ৪ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। তাই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও এ ধরনের বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিরোধীদলের সমালোচনা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হন নাই। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।’

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন