ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। শনিবার রয়টার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি হিসেবে শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। তবে দেশটির বিরোধী দলের উদ্যোগে পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে ৫৫ হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে জীবিতদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছে। লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের কয়েকটি এলাকায় দুর্গম স্থানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে।
ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও মৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে গত কয়েক দিন ধরে স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। তবে ভারী যন্ত্রপাতির সংকট এবং সরকারি উদ্ধারকর্মীদের সীমিত উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬০০-এর বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন এবং আরও কয়েকটি দল আসছে। গত বুধবার ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং পরবর্তী শত শত পরাঘাতের পর আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়তে শুরু করেছে।
লা গুয়াইরার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি কারাবালেদায় মার্কিন হেলিকপ্টারের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব এলাকায় সমানভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হয়নি। তবে শনিবার কারাবালেদা ও লস কোরালেসের কয়েকটি অংশে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছিল।
এদিকে লা গুয়াইরা এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে কর্তৃপক্ষ। কারাকাস থেকে প্রধান সড়কগুলোতেও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোর চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন বেসামরিক ব্যক্তিদের তল্লাশি চৌকি অতিক্রমের সময় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এটি গত শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী লাতিন আমেরিকান দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।