Ridge Bangla

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৩২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ১৮ দিনের নবজাতক

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিনের এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরায় শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উদ্ধার অভিযানের এই মুহূর্তটি দেখা গেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, লা গুয়াইরার ধসে পড়া একটি কংক্রিটের স্তূপের ওপর ফ্লাডলাইটের আলোয় সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে বের করে আনতেই সেখানে উপস্থিত সবার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা হাততালি দেন।

আরও দেখা যায়, কাঁথার মতো একটি কাপড়ে মোড়ানো নবজাতককে উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে একজনের হাত থেকে আরেকজনের হাতে তুলে দিচ্ছেন। পরে টিস্যু দিয়ে আলতোভাবে তার শরীর পরিষ্কার করা হয়।

আন্দ্রেয়িনা কুইন্তেরো নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রথম এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স মাত্র ১৮ দিন। প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্ধকার ও ধুলাবালুর মধ্যে আটকে থাকলেও তার শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধারের প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করেন।

পরে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মাকে দেখা যায়। সেখানে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

ওই চিকিৎসকের ভাষ্য, ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর অথবা অন্য কোনো শক্ত বস্তু দিয়ে সন্তানকে আড়াল করে রেখেছিলেন। ফলে ওপর থেকে ভারী কংক্রিট বা পাথর পড়ে গেলেও শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। চিকিৎসকদের ধারণা, মায়ের এই আত্মত্যাগই শিশুটির জীবন রক্ষা করেছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পাশাপাশি ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন