ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স ও অস্থায়ী ট্রাংক খুলে পাওয়া গেছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। দিনব্যাপী গণনা শেষে দানবাক্স থেকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং সোনা-রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর তা খোলা হয়। সকালে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলোর তালা খোলা হয়। পরে নগদ অর্থ ৪৩টি বড় বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনার কাজ শুরু করা হয়।
টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসনের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। রাত সাড়ে ৮টায় গণনা শেষে চূড়ান্ত হিসাব ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ।
পুরো কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রায় চার মাস পর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখনও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছিল।
গফরগাঁও থেকে আসা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলে বিয়ের পাঁচ বছর পরও সন্তান না হওয়ায় তিনি পাগলা মসজিদে মানত করেছিলেন। সম্প্রতি নাতনির জন্ম হওয়ায় সেই মানত পূরণ করতে তিনি দান করতে এসেছেন।
অন্যদিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাসিন্দা বাসন্তী রানী বর্মন বলেন, তাঁর মেয়ের জটিল অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার পর করা মানত অনুযায়ী তিনি নিজের কানের সোনার দুল দানবাক্সে জমা দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের গভীর বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলনই এই বিপুল দান। তিনি জানান, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মসজিদের সরাসরি দানের অর্থ ব্যাংকে জমা ছিল ১১৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের ২৬ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আরও ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা জমা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই অর্থ ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যয় করা হয় না। দানের অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন, পরিচালনা, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ে অনুদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।