Ridge Bangla

গরু পশু নয়, আমাদের মা: যোগী আদিত্যনাথ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে গরুকে কেবল একটি প্রাণী হিসেবে দেখা হয় না, বরং মায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়। তিনি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের অনুসারীরা যেন গরুর প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান না দেখায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা উচিত।

সোমবার বিজনৌরে এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এবং কয়েকজন ধর্মীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এসব মন্তব্য করেন।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “একজন সন্তানকে তার মাকে সম্মান করতে আলাদা করে শেখাতে হয় না। মানুষ মা এবং গরু- দুটিকেই একইভাবে শ্রদ্ধা করে। যারা গরুকে শুধু পশু বলে, তারা গো-হত্যা সমর্থন করে।”

তিনি আরও বলেন, উত্তর প্রদেশে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ গরুর ছবি ব্যবহার করে কুরবানির ঈদের শুভেচ্ছা জানায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবারের মধ্যে জমির মালিকানা সনদ বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রাক্তন সেনাসদস্য এবং ইজারাধারীদেরও সনদ দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় ধর্মীয় উগ্রতার কারণে এসব পরিবারের পূর্বপুরুষরা সম্পত্তি হারিয়েছিলেন এবং হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। বহু বছর পর তাদের উত্তরসূরিরা এখন জমির মালিকানার স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বাকি যোগ্য পরিবারগুলোর জন্যও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বক্তব্যে যোগী আদিত্যনাথ প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষে ধর্মীয় নেতারা কেন সরব হননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার ঘটনাতেও কিছু ধর্মীয় নেতা নীরব ছিলেন।

তার ভাষায়, ওই নেতাদের পাকিস্তানকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া এবং ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানানো উচিত ছিল।

This post was viewed: 8

আরো পড়ুন