Ridge Bangla

জনরোষের মুখে গ্রামবাসীদের টাকা ফেরত দিচ্ছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ‘কাটমানি’ ও বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা অর্থ গ্রামবাসীদের ফেরত দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, জনরোষ এবং সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতেই তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ উদ্দেশ্যে গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিযোগের মুখে থাকা কয়েকজন নেতা সরাসরি অর্থ ফেরত দেন। যেসব নেতা বর্তমানে পলাতক, তাদের পরিবারের সদস্যরাও কিছু ক্ষেত্রে গ্রামবাসীদের হাতে টাকা তুলে দেন।

গত রোববার পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরের কুঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বিজেপি সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মনের দাবি, একজন পঞ্চায়েত সদস্যসহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি আদায় করেছিলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে একজন পঞ্চায়েত সদস্যসহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এলাকায় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি আদায় করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “এখন পরিণতির আশঙ্কায়, পঞ্চায়েত সদস্য নিজে অনুপস্থিত থাকলেও কয়েকজন নেতাকে সামনে এসে অন্তত কিছু অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।”

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় তৃণমূল নেতারা ফকিরের কুঠির একটি স্কুল মাঠে গ্রামবাসীদের সমবেত করেন। সেখানে পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ সভাপতি তপন দে কয়েকজনের হাতে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ফেরত দেন।

এলাকার পরিচিত তৃণমূল নেতা বাবাই বর্মন বর্তমানে পলাতক বলে স্থানীয়দের দাবি। তার অনুপস্থিতিতে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের টাকা ফেরত দেন তার বাবা।

টাকা ফেরত পাওয়া কয়েকজন গ্রামবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও ক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন। এক গ্রামবাসী বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধ মিটিয়ে দেয়ার কথা বলে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা আমার কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও কাজই হয়নি। পরে শুনলাম অনেককে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। তাই আমি নাম নিবন্ধন করি এবং আজ আমার টাকা ফেরত পেয়েছি।”

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন