আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী পরিবেশে আস্থা ফেরাতে এই ব্যাপক মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় সংখ্যাটি বাড়িয়ে এক লাখ করা হয়েছে। এর মূল কারণ হলো, এবার সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের নির্বাচনে ছিল না।
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করত। এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সেনাসদস্যদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাপ্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সদস্য রেখে বাকি সেনাসদস্যদের নির্বাচনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত করেছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে যানবাহন সংকটের কথাও তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নিজস্ব যানবাহন সীমিত হওয়ায় বেসামরিক প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে গাড়ি ভাড়া করেও টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যাতে দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে। তিনি আরও বলেন, গত ২০ জানুয়ারি থেকে সেনাসদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে টহল দিচ্ছেন।