Ridge Bangla

২০ টাকার ঝালমুড়ির টাকা নিয়ে বিরোধ, কিশোরগঞ্জে যুবককে ছুরিকাঘাত

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ২০ টাকার ঝালমুড়ির মূল্য পরিশোধকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আমিন (২৫) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের নধার বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আমিন যশোদল ইউনিয়নের নধার গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতা সোহেল (৩১) একই গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বন্ধু মোবারককে সঙ্গে নিয়ে সোহেলের দোকানে ঝালমুড়ি খেতে যান আমিন। দুজনের ঝালমুড়ি খাওয়ার পর আমিন জানান, তিনি পরে ২০ টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু সোহেল তাৎক্ষণিক টাকা দাবি করলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে আমিনের বন্ধু মোবারক নিজের কাছ থেকে ২০ টাকা পরিশোধ করেন। তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা চলতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সোহেল তাঁর কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আমিনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আমিন ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি আমিন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এমন একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আহতের বড় ভাই আল আমিন বলেন, “মাত্র ২০ টাকার ঝালমুড়ির টাকা নিয়ে আমার ভাইয়ের ওপর এমন নৃশংস হামলা করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। আমরা হামলাকারীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন