প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে চীনা শিল্পাঞ্চলে প্রথম কারখানা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছয় দিনের সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অর্জন তুলে ধরতে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিডা চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, চীনের দালিয়ান ও বেইজিংয়ে বড় বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে গ্রিন সিটি নির্মাণসহ একাধিক নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত সহায়তা ও জমি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আশিক মাহমুদ জানান, আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের পাশে প্রায় ১৫০ একর জমিতে চীনা শিল্পপার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সেখানে প্রথম কারখানা চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সফরের মূল লক্ষ্য ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হালাল শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি। অন্যদিকে চীন সফরে গুরুত্ব পেয়েছে বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরা এবং জ্বালানি অবকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ। এসব বিবেচনায় সফরটি সফল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রতিবন্ধক হিসেবে তুলে ধরে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, এ কারণে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে তেল-গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধানে পেট্রোনাস আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আশিক মাহমুদ বলেন, এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সহজ হবে। এছাড়া লজিস্টিকস, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতের বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক হালাল শিল্প নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশন মালয়েশিয়ার জাকিমের স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশে হালাল সনদ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ভিত্তিতে হালাল শিল্পপার্ক গড়ে তোলা এবং মালয়েশিয়া, চীনসহ বৃহত্তর এশিয়ার বাজারে হালাল খাদ্য ও প্রসাধনী রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, মালয়েশিয়ার পাশাপাশি চীনও জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন জ্বালানি ও গ্যাস অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে এলএনজি আমদানি, ডিজেল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।