Ridge Bangla

হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, ৮ বছর পর শুরু হচ্ছে টিকা প্রদান

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত ৮ বছর ধরে দেশে হামের টিকা প্রদান করা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে হামের রোগী অনেক বেড়েছে এবং নতুন করে টিকা সংগ্রহ করতে সরকারের পক্ষ থেকে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। টিকা সংগ্রহের জন্য পারচেজ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে এবং শিগগিরই টিকা সংগ্রহ শুরু হবে।

হামের টিকা শিশুকে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে দেওয়া হয়। তবে ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে টিকা প্রদান না হওয়ায় দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত গত জানুয়ারি মাসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি সতর্কতা জারি করা হয় এবং রাজধানী ঢাকার বস্তি এলাকাতেও হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হয়ে গেছে এবং তাদের বড় অংশই হামের রোগী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইসিইউ ব্যবস্থা ও ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন হাসপাতালের প্রস্তুতি চলছে।

হামের পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে আশঙ্কাজনক চিত্র দেখা দিয়েছে। রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ২৯ শতাংশ হামের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে এবং সেখানে শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের ভর্তি থাকলেও, অনেক শিশু আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা নিচ্ছে।

একাধিক শিশু মৃত্যুর পর সরকার পাঁচটি নতুন ভেন্টিলেটর পেয়েছে, যা প্রয়োজনীয় হাসপাতালে বিতরণ করা হবে।

রাজশাহীতে শুধু নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহেও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত তিন মাসে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৬০০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

ময়মনসিংহে হাম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে এবং ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসা দিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করা হলেও রোগীর চাপ বাড়ায় তাও পর্যাপ্ত নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক সমস্যা হতে পারে, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়াই মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু সনদে ‘হাম’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা স্থানীয় হাসপাতালে সঠিক আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে ঘটেছে।

আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা বা তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, আইসোলেশন ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর না হওয়া এবং হাসপাতালগুলোর শয্যা সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

This post was viewed: 13

আরো পড়ুন