Ridge Bangla

সুপারসনিক ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন রণতরী পেল ভারত

ভারতের নৌবহরে যুক্ত হয়েছে সুপারসনিক ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন স্টিলথ রণতরী ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ফ্রিগেটটি দেশটির সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় নৌবহরে যুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে রণতরীটির অভিষেক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ও প্রাণঘাতী অস্ত্রব্যবস্থা সুপারসনিক ব্রাহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আইএনএস মহেন্দ্রগিরিকে সজ্জিত করা সম্ভব।

উন্নত এ ফ্রিগেটকে ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনাথ সিং জানান, রণতরীটিতে স্থল থেকে স্থলে নিক্ষেপযোগ্য ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা যাবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইএনএস মহেন্দ্রগিরিতে মাঝারি পাল্লার স্থল থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সমন্বিত বহুমুখী রাডার রয়েছে। এ ব্যবস্থা দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

রণতরীটির অস্ত্রব্যবস্থায় নিজস্ব প্রযুক্তির রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, টর্পেডো উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, সমন্বিত সাবমেরিনবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থা এবং কাছাকাছি দূরত্বের হুমকি মোকাবিলার অস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারতের উপকূলরেখা ও গভীর সমুদ্র- উভয় এলাকায় দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে এ ফ্রিগেট।

যুদ্ধের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা, হাইপারসনিক অস্ত্র ও চালকবিহীন ব্যবস্থার মতো উদীয়মান প্রযুক্তি আধুনিক সংঘাতের ধরন বদলে দিচ্ছে।

তবে প্রচলিত সামরিক শক্তি এখনও কার্যকর প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। উন্নত প্রযুক্তি ও প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থা একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনাথ সিং বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লড়াই হতে পারে। তবে তা জয় করতে হবে জাতীয় সংকল্প, প্রশিক্ষিত সৈনিক এবং নির্ভরযোগ্য সামরিক শক্তির মাধ্যমেই।

গত ১৮ মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া নিজস্ব প্রযুক্তির ষষ্ঠ স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি। এ শ্রেণির প্রথম জাহাজ ‘আইএনএস নীলগিরি’ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছিল।

ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ নকশা ব্যুরো ফ্রিগেটটির নকশা করেছে। মুম্বাইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড এটি নির্মাণ করেছে।

রণতরীটি বিমান প্রতিরক্ষা, সমুদ্রপৃষ্ঠ ও সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ, সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা এবং নজরদারিসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।

৭৫ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদানে তৈরি আইএনএস মহেন্দ্রগিরি বহুমুখী হেলিকপ্টার বহন করতে পারে। উন্নত স্টিলথ বৈশিষ্ট্য, আধুনিক সংবেদক, নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত রণতরীটি ভারতের নিজস্ব নৌ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন