Ridge Bangla

রাজশাহীতে পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে মহিষের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণের দাবি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে একটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে থাকায় সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ৪ ফুট ব্যাসার্ধের কূপের ভেতরে টর্চের আলো ফেললে মহিষটিকে দেখা গেলেও কোনো নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে সেটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহিষটির মালিক বিকাশ খা খা, যিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওঁরাও সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দুটি মহিষ কিনেছিলেন। মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। মহিষ দিয়ে হালচাষ করে তিনি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুটি মহিষের মধ্যে একটি মারা যাওয়ায় তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একই ধরনের একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

ওই ঘটনার পর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এ ধরনের সব বোরহোল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বিভাগের ৮ জেলার জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠান। পরে কিছু বোরহোল বন্ধ করা হলেও শাহানাপাড়া গ্রামের এই বোরহোলটি খোলা অবস্থায় রয়ে যায়।

শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৮০ ফুট গভীর কূপটির চারপাশে মাটি ধসে পড়া ঠেকাতে বাঁশের চাটাই দেওয়া রয়েছে। কূপের ভেতরেই পড়ে ছিল প্রায় ৪ বছর বয়সী মহিষটি। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহিমের জমিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্দেশ্যে কূপটি খনন করা হয়েছিল।

বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা বলেন, বিকেলে মহিষটি ছুটে গিয়ে গর্তে পড়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে যান। মহিষটির অবস্থা দেখে তাঁর বাবা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁর মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় সংসার। বাবা মহিষ দিয়েই হালচাষ করে সংসার চালান। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তা করে কূল পাচ্ছি না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিলেও কাজ শেষ না করে বোরহোলটি খোলা রেখে যান। তাঁদের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাশির উদ্দিন বাবু বলেন, তাঁরা কয়েকজন মিলে ওই জমিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। খননের পর সেখানে পানির স্তরও পাওয়া যায়। পরে বিএমডিএ কাগজপত্র জমা দিতে বললেও জমির মালিক তা জমা দেননি। ফলে নলকূপ স্থাপন করা হয়নি। ভবিষ্যতে সেখানে নলকূপ স্থাপন হবে- এই আশায় কূপটি বন্ধ করা হয়নি।

তিনি জানান, মহিষ পড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন